প্রেমের ক্ষেত্রে উচ্চতা কোনো বাঁধা নয়, গিনেস বুকে রেকর্ড দম্পতির - The News Lion

প্রেমের ক্ষেত্রে উচ্চতা কোনো বাঁধা নয়, গিনেস বুকে রেকর্ড দম্পতির

 


দি নিউজ লায়নঃ  মানুষ স্বভাবতই প্রেম বা বিয়ে করতে গেলে তার থেকে একটু উচ্চতাসম্পন্ন পাত্র বা পাত্রী খুঁজে থাকেন বা অগ্রাধিকারে রাখেন। কিন্তু কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও ঘটে থাকে। প্রেমের ক্ষেত্রে যে উচ্চতা কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, সেটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন এক দম্পতি।    সমাজে নারীরা পুরুষের চেয়ে একটু লম্বা হলেই শুনতে হয় নানা কানকথা বা কটূকথা। নারীদের চেয়ে নাকি পুরুষদের ই লম্বা হতে হয়। তাহলেই না-কি সেই দম্পতিকে দেখতে সুন্দর দেখায় এবং তারা পারফেক্ট হিসেবে বিবেচিত হন।   




 ব্যতিক্রম কাজটি করে দেখালেন যুক্তরাজ্যের জেমস ও ক্লো লাস্টেড দম্পতি। তার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সুখী হতে উচ্চতা কোনো বিষয় নয়, কিংবা সঙ্গী দেখতে কেমন, সে বিষয়টি কখনোই প্রভাব ফেলে না। আর তাই তো বিশ্বের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর উচ্চতার পার্থক্যের দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে নিয়েছেন তারা। গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।  ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই দম্পতি। তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। জেমসের বয়স ৩৩ বছর। তিনি একজন অভিনেতা এবং উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে ক্লোর বয়স ২৭ বছর, তিনি শিক্ষিকা।  জেমসের উচ্চতা ১০৯.৩ সেন্টিমিটার (৩ ফুট ৭ ইঞ্চি) এবং তার স্ত্রী ক্লোর উচ্চতা ১৬৬.১ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)।


 এই দম্পতির মধ্যকার উচ্চতাগত পার্থক্য হলো ৫৬.৮ সেন্টিমিটার (প্রায় ২ ফুট)। চলতি বছরের ২২ জুন এই বিবাহিত দম্পতি তাদের মধ্যকার উচ্চতার পার্থক্যর কারণে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।    জেমসের এই কম উচ্চতার কারণ তিনি একটি বিরল বামনত্ব বিষয়ক রোগে ভুগছেন। ডায়াস্ট্রোফিক ডিসপ্লাসিয়া, একটি জিনগত ব্যাধি যা হাড় এবং কার্টিলেজ বিকাশকে প্রভাবিত করে। এ কারণে বয়স অনুযায়ী তার উচ্চতা বাড়েনি।  বামনত্বের কারণে জেমস সব সময়ই হতাশ ছিলেন। তিনি কখনোই ভাবেননি যে জীবনে বিয়ে করতে পারবেন।  


জেমস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি কখনো চাইনি আমার জীবনসঙ্গী করুনা দেখিয়ে সঙ্গে থাকুক। তবে ক্লো এই বিষয়টি কখনোই আমাকে তা বুঝতে দেয়নি। সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমিও তাকে ভীষণ ভালোবাসি। আমি আমার ছোট্ট শরীর নিয়েই জীবনে অনেক বড় হতে চাই।  জেমসের সঙ্গে তার স্ত্রী ক্লোরার পরিচয় হয় ২০১২ সালে। সব মেয়েরা যেমন চায়, ক্লোরাও অন্যান্য মেয়েদের মতোই চেয়েছিলেন তার স্বামীও সুঠামদেহী এবং অনেক লম্বা হবেন। তবে জেমসের সঙ্গে তার পরিচয়ের পরে এই বিষয়টি নিয়ে আর একদমই মাথা ঘামাননি ক্লোরা।  


ক্লোরা বলেন, আমি সত্যিই তখন ভয় পেতাম, লোকেরা কীভাবে দেখবে বিষয়টি; আমাদের বিষয়টি নিয়ে কী ভাববে কিংবা খারাপ প্রতিক্রিয়া জানাবে সে বিষয়ে। তবে সব বাঁধা-বিপত্তি এড়িয়ে আমরা আজ সুখী জীবনযাপন করছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসতে পেরেছি।  তিনি বলেন, কে কী ভাবছেন, বলছেন বা বলবেন সে সব বিষয় নিয়ে কোনো কিছু না ভেবেই আমরা ২০১৩ সাল থেকে টানা তিন বছর প্রেম করি। এরপর ২০১৬ সালে বিয়ে সম্পন্ন করি। বর্তমানে আমসদের বিবাহিত জীবন ৫ বছরে পদার্পন করেছে। 


আমাদের সংসারে আছে ২ বছরের এক কন্যা সন্তান। তার নাম অলিভিয়া।    নিজেদের জীবন সম্পর্কে এই দম্পতি বলেন, আমাদের প্রেমের গল্পটি অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং দৃষ্টান্তমূলক। অনেক সময় আমরা সঙ্গীর রূপ ও উচ্চতা দেখে সম্পর্ক গড়ে তুলি! এমন সঙ্গীরা কি আদৌ সংসারে সুখী হতে পারেন? তবে উচ্চতায় বিশাল ফারাক থাকা স্বত্ত্বেও আমরা সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছি। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.